কি খেলার ইঙ্গিত দিলেন কঙ্গনা (ভিডিও)

‘ডন’ ফিরতেই যেন বুকে বল। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে, আলোচনা ও চর্চায় আবারও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন। পদত্যাগ বিতর্কের দু’মাসের মধ্যেই দাবি করলেন তিনিই ‘প্রধানমন্ত্রী’। বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। যার প্রথম লাইনেই লেখা, “বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি (প্রধানমন্ত্রী) জননেত্রী শেখ হাসিনা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার অভিনন্দন জানিয়েছেন।”
অর্থাৎ সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জয়ের পর ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনার অভিনন্দন জানানোর পর আওয়ামী লীগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তা শেয়ার করেছে। সেই বার্তায় আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই উল্লেখ করেছে।
যদিও বৃহস্পতিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে সে বিষয়েই প্রশ্ন করেছিলেন এক সাংবাদিক।
সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে আমাদের দেশে বসবাস করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যখন তিনি অভিনন্দন জানালেন, তখন এ ধরনের বার্তা এসেছিল যাতে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। আপনি বারবার তাকে এই ইঙ্গিত দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাহলে কি ভারত তাকে নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করে, নাকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে? অনুগ্রহ করে এটি পরিষ্কার করবেন।
জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘আমি বলব, আমি এ বিষয়ে আগেই এখানে আমার বিবৃতি দিয়েছি এবং আপনি সেই বিবৃতিকে আমাদের অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। ঠিক আছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এই স্থান থেকে বলেছি যে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তাই সেটাই আমাদের অবস্থান।’
এদিকে বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্টোরি পোস্ট করেছেন। তিনি হাসিনার বিষয়ে লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনা জি কখনো পদত্যাগ করেননি, আজ তিনি ট্রাম্পকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। উচ্চ পর্যায়ের খেলা হবে।’
প্রসঙ্গত, আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ সরব ছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত।
উল্লেখ্য, ৫ অগস্ট বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। বলা চলে যে, তিনি পালিয়েই গেছেন ভারতে। ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লিতে পালান বঙ্গবন্ধু কন্যা।
সূত্রের খবর, গত দু’মাস নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলোতে আছেন হাসিনা।
তবে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রথম দিন থেকেই দাবি করেন, ‘মা পদত্যাগ করেননি।’
জয়ের বক্তব্য, শেখ হাসিনাকে সরকারিভাবে পদত্যাগ করার সময়ই দেওয়া হয়নি। এরইমধ্যে হাসিনার পদত্যাগ বিতর্কে নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি চুপ্পু। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনও প্রমাণপত্র তার কাছে নেই। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের পর নতুন করে উত্তপ্ত হয় বাংলাদেশ। তার পদত্যাগ চেয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় এবং আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে উল্লেখ নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *