বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে কিছু কণ্ঠ আছে, যেগুলো শুধু গান হয়ে মানুষের কানে পৌঁছায় না, বরং মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে যায়। প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা কিংবা হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি—জীবনের প্রতিটি অনুভূতিকে যে কণ্ঠ অসাধারণ মায়ায় ধারণ করেছে, সেই কণ্ঠ আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত হয়। কখনো সেই কণ্ঠে মানুষ খুঁজে পেয়েছে নিজের ভালোবাসার গল্প, কখনো বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টের ভাষা, আবার কখনো ফিরে গেছে বাংলা সিনেমার সোনালি যুগে।
“জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প…”
নিজের গাওয়া এই গানটির কথাগুলো যেন অজান্তেই নিজের জীবনের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল তার। আরও কিছু গান, কিছু স্বপ্ন আর অসমাপ্ত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ফিরতে চেয়েছিলেন জীবনের মঞ্চে। কিন্তু ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেই ফেরা আর হয়নি। ২০২০ সালের ৬ জুলাই থেমে যায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জীবনযাত্রা। তবে থেমে যায়নি তার কণ্ঠ। আজও তার গান মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। আজও পুরোনো কোনো সিনেমার গান কিংবা রেডিওতে ভেসে আসা তার কণ্ঠ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক আবেগময় সময়ে। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অসামান্য অবদানের জন্য যিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে, আজকের গল্প সেই কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে।
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তার পিতা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মাতা মিনু বাড়ৈ। তার শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে রাজশাহীতে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি সংগীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন। রাজশাহীর সংগীতগুরু আবদুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে ‘সুরবাণী’ গানের স্কুলে তিনি প্রাথমিকভাবে সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেন।
এন্ড্রু কিশোরের সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তৈরিতে তার মায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মা মিনু বাড়ৈ নিজেও সংগীতের অনুরাগী ছিলেন। ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কিশোর কুমারের গান তিনি পছন্দ করতেন। প্রিয় শিল্পীর নামানুসারেই সন্তানের নাম রাখা হয় কিশোর। মায়ের সেই ভালোবাসা এবং স্বপ্ন যেন ধীরে ধীরে ছেলের জীবনের পথ তৈরি করে দেয়। সংগীতের বিভিন্ন শাখায় নিজেকে গড়ে তুলতে থাকেন তিনি। নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক গান, লোকসংগীত এবং দেশাত্মবোধক গান—বিভিন্ন ধারার সংগীতের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এন্ড্রু কিশোর রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন শুরু করেন। বেতারে তিনি বিভিন্ন সংগীত শাখায় অংশ নিতেন। এই সময়টিই ছিল তার কণ্ঠ, সংগীতবোধ এবং পরিবেশন দক্ষতা গড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সংগীতের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যান তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়াশোনা করেন এন্ড্রু কিশোর। তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় যে সংগীতশিল্পী হিসেবে তৈরি হবে, সেই পথচলা তখনই ধীরে ধীরে শুরু হয়ে গেছে।
চলচ্চিত্রের গানে এন্ড্রু কিশোরের অভিষেক হয় ১৯৭৭ সালে। সংগীত পরিচালক আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে তিনি গেয়ে ওঠেন “অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ” গানটি। এই গান দিয়েই নেপথ্য সংগীতশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রেও গান করেন। তবে ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের “এক চোর যায় চলে এ মন চুরি করে” গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। গানটি জনপ্রিয় হওয়ার পর এন্ড্রু কিশোরের সামনে খুলে যায় সাফল্যের নতুন দরজা। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
তার কণ্ঠ ছিল শক্তিশালী, দরাজ এবং আবেগপূর্ণ। গানের কথার সঙ্গে অনুভূতিকে মিশিয়ে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের গানের জগতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা বেদনা—জীবনের নানা অনুভূতি তার কণ্ঠে যেন নতুন প্রাণ পেত। আশির দশকে এসে এন্ড্রু কিশোর হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় পুরুষ কণ্ঠশিল্পী।
১৯৮২ সালে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের “হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস” গানটি তার সংগীতজীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আসে। সৈয়দ শামসুল হকের কথায় এবং আলম খানের সুরে তৈরি এই গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বিভাগে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এন্ড্রু কিশোর। এ পুরস্কার ছিল তার দীর্ঘ সংগীতযাত্রার প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
এরপর ১৯৮৪ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে তিনি কণ্ঠ দেন তিনটি উল্লেখযোগ্য গানে—“আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি”, “আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন” এবং “আমার বুকের মধ্যখানে”। অভিনেতা জাফর ইকবালের ঠোঁটে এই গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। চলচ্চিত্রের গানে এন্ড্রু কিশোরের অবস্থান তখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তার কণ্ঠে গাওয়া গান মানুষের মুখে মুখে ফিরতে শুরু করেছে।
১৯৮৭ সালে ‘সারেন্ডার’ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে তিনি কয়েকটি গান করেন। এর মধ্যে “সবাই তো ভালোবাসা চায়” গানটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায়। এই গানটির জন্য তিনি অর্জন করেন তার দ্বিতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর একে একে তার ঝুলিতে যোগ হতে থাকে আরও বহু জনপ্রিয় গান ও সম্মাননা। ‘ক্ষতিপূরণ’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘কবুল’, ‘আজ গায়ে হলুদ’, ‘সাজঘর’ এবং ‘কী যাদু করিলা’ চলচ্চিত্রের গানের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সম্মানিত হন। প্রথম পুরস্কারসহ মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এন্ড্রু কিশোর।
তবে তার জনপ্রিয়তা শুধু পুরস্কারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল। “ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে”, “আমার গরুর গাড়িতে”, “তোমায় দেখলে মনে হয়”, “পড়ে না চোখের পলক”, “প্রেমের সমাধি ভেঙে”, “ভালো আছি ভালো থেকো”, “বেদের মেয়ে জোছনা আমায়”, “তুমি ছিলে মেঘে ঢাকা চাঁদ”, “পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার মাঝে খুঁজে পেয়েছি”, “আমি একদিন তোমায় না দেখিলে”, “জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প”, “তুমি আজ কথা দিয়েছ” এবং “কী যাদু করেছো বলো না”—এমন অসংখ্য গান তার কণ্ঠে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার গান শুধু চলচ্চিত্রের গল্পকে এগিয়ে নেয়নি, বরং শ্রোতাদের নিজেদের জীবনের অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গিয়েছিল।
এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে একক গান যেমন জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন নারী শিল্পীর সঙ্গে তার দ্বৈত গানও শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন, কনকচাঁপাসহ বহু শিল্পীর সঙ্গে তার কণ্ঠের জুটি বাংলা চলচ্চিত্রকে উপহার দিয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় গান। তার কণ্ঠে ছিল আবেগের গভীরতা, গানের কথাকে ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা এবং চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা। এ কারণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কণ্ঠশিল্পী।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এন্ড্রু কিশোরের প্রতিভা দেশের সীমানা পেরিয়েও পৌঁছে যায়। ভারতের কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক রাহুল দেববর্মন, যিনি আর ডি বর্মন নামে পরিচিত, তার সুরে হিন্দি গান গাওয়ার সুযোগ পান এন্ড্রু কিশোর। ১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শত্রু’ চলচ্চিত্রে তার কণ্ঠ শোনা যায়। এ ছাড়া আর ডি বর্মনের সুরে আরও দুটি বাংলা গানও করেন তিনি। বাংলাদেশের একজন শিল্পীর কণ্ঠ ভারতের চলচ্চিত্রের সংগীতজগতেও জায়গা করে নেয়—এটি ছিল তার সংগীতজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও এন্ড্রু কিশোরের কর্মজীবন শুধু গানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৮৭ সালে তিনি কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে ‘প্রবাহ’ নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন। টেলিভিশন নাটক, বাণিজ্যিক কাজ এবং অন্যান্য প্রযোজনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম জড়িত ছিল। অর্থাৎ মাইক্রোফোনের সামনে শিল্পী হিসেবে যেমন তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তেমনি সংগীতের বাইরেও পেশাগতভাবে বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে এন্ড্রু কিশোর ছিলেন পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ। লিপিকা অ্যান্ড্রু ইতির সঙ্গে তার বিবাহ হয়। তাদের দুই সন্তান—কন্যা মিনিম অ্যান্ড্রু সংজ্ঞা এবং পুত্র জয় অ্যান্ড্রু সপ্তক। দীর্ঘ সংগীতজীবনে ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে সবসময় পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারলেও স্ত্রী, সন্তান এবং ঘর ছিল তার চিন্তার জগতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল এতটাই গভীর যে ব্যক্তিগত জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও গানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এমনকি বিয়ের পরদিনও সংগীত পরিচালকের ফোন পেয়ে তিনি রেকর্ডিং স্টুডিওতে ছুটে গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণায় জানা যায়।
এন্ড্রু কিশোর ছিলেন একজন পেশাদার শিল্পী। তিনি নিজেকে গীতিকার বা সুরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেননি। তার বিশ্বাস ছিল, তিনি সবচেয়ে ভালো পারেন গান গাইতে। তাই নিজের কণ্ঠকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং শ্রোতাদের ভালো গান উপহার দেওয়াকেই তিনি জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের গানে রাজত্ব করেছেন। তার গাওয়া গান মানুষের জীবনের নানা মুহূর্তের সঙ্গে মিশে গেছে। কারও কাছে তার গান প্রেমের স্মৃতি, কারও কাছে হারানো দিনের কথা, আবার কারও কাছে বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের পরিচয়।
কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে এই কিংবদন্তি শিল্পী কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হন। ২০১৯ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে চিকিৎসা চললেও তার শারীরিক অবস্থার পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। দেশে ফেরার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। অবশেষে ২০২০ সালের জুনে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং জীবনের শেষ সময়টা রাজশাহীতে কাটান।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও হুইলচেয়ারে বসে মঞ্চে উঠেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। সেখানে তিনি গেয়েছিলেন তার বিখ্যাত গান—“জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প”। গানটির কথাগুলো তখন যেন অন্য এক অর্থ নিয়ে শ্রোতাদের সামনে ফিরে আসে। একজন শিল্পী, যিনি সারা জীবন মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প গেয়েছেন, তিনি নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়েও গানের সঙ্গেই ছিলেন।
২০২০ সালের ৬ জুলাই, ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের জগতে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু তার গান থেমে যায়নি। আজও তার কণ্ঠে গাওয়া “হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস”, “ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে”, “সবাই তো ভালোবাসা চায়”, “আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি” কিংবা “জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প” মানুষের মনে গভীরভাবে বেঁচে আছে।
সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২৪ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল মানুষের ভালোবাসা। কারণ পুরস্কার সময়ের সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া শিল্পীর গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকে।
এন্ড্রু কিশোর শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একটি যুগের প্রতিচ্ছবি, অসংখ্য মানুষের আবেগের অংশ এবং একটি প্রজন্মের স্মৃতি। তার কণ্ঠে মানুষ খুঁজে পেয়েছে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, আনন্দ, বেদনা এবং জীবনের নানা গল্প। তার জীবন থেমে গেছে, কিন্তু তার গান আজও আমাদের সঙ্গে কথা বলে।
বাংলা চলচ্চিত্রের গানের আকাশে যত দিন সুর ভেসে বেড়াবে, যত দিন মানুষ পুরোনো দিনের গান শুনে স্মৃতির পাতায় ফিরে যাবে, তত দিন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠও বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।
এন্ড্রু কিশোর চলে গেছেন, কিন্তু তার গান আজও চলছে।
আরও খবর
‘দামাদাম গার্ল’ থেকে কিংবদন্তি রুনা লায়লা
উপমহাদেশের সংগীতজগতে এমন কিছু নাম আছে, যাদের পরিচয় কোনো একটি দেশ- কোনো একটি ভাষা কিংবা কোনো একটি সংগীতধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ...
আত্মজীবনী লিখলেন অঞ্জন দত্ত
সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও অঞ্জন দত্তের সৃজনশীল জগৎ বহুমাত্রিক। গান লেখা, সুর করা ও গাওয়ার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন সিনেমার সঙ্গে...
‘অঞ্জনা’ নিয়ে আসছেন মনির খান
দেশের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খান। এই গায়কের ‘অঞ্জনা’ সিরিজের গানগুলো তার ভক্তদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। প্রতি বছরই এ সংগীতশিল্পী জানুয়ারির...
আমি শান্তি চাই, একটু বাঁচতে সাহায্য করুন: তাহসান
গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান এবং তার স্ত্রী রোজাকে নিয়ে অনেক আলোচনা। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের দাম্পত্য জীবনে ভাঙনের...
গুঞ্জন হচ্ছে সত্যি, বিয়ে করছেন জেফার-রাফসান
দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ও কানাঘুষার অবসান ঘটিয়ে কাল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন কণ্ঠশিল্পী জেফার রহমান ও উপস্থাপক রাফসান সাবাব। শোবিজ অঙ্গনে বহুল...
ঢাকায় জলের গানের কনসার্ট
মানুষ, জলবায়ু ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আয়োজিত ‘ইকোস অব দ্য ডেলটা’ কনসার্টে গাইবে জলের গান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর আলোকি কনভেনশন...
