সিনেমার মতই বাস্তব জীবনেও স্পষ্টভাবে নিজের মতামত তুলে ধরাই বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের স্বভাব। গেল মাসেই অতীতে নানা বিষয়ে তুলনা টানতে গিয়ে বলিউডের নারী-পুরুষদের পারিশ্রমিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। আবারও একই বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী।

আজ জাতিসংঘ জনসংখ্যা কার্যক্রম তহবিল (ইউএনএফপিএ) ভারতের লিঙ্গ সমতার সম্মানসূচক দূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কৃতি শ্যানন। এ দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি জানালেন, নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং লিঙ্গবৈষম্য ভাঙাই এখন তার লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার বাবা-মা দুজনই কর্মজীবী ছিলেন এবং সংসারের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নিতেন। ফলে কৃতি ও তার বোন কখনোই নিজেদের লিঙ্গের কারণে সীমাবদ্ধ মনে করেননি। তবে কৃতির মা একই অভিজ্ঞতা পাননি।

যদিও শৈশবে বৈষম্যের অভিজ্ঞতা কম ছিল, তবে বলিউডে ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে কৃতিকে তা অনুভব করতে হয়েছে। তার কথায়, “খুব বেশিবার বৈষম্যের বিষয় না ঘটলেও ছোট ছোট ব্যাপার-যেমন পুরুষ অভিনেতা ভালো গাড়ি বা ভালো রুম পাচ্ছেন। এটা গাড়ির জন্য নয়, বরং আমি যেন শুধু নারী হওয়ার কারণে ছোট বোধ না করি। সমান আচরণ চাই, ব্যাস সেটুকুই।’

তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় সহকারী পরিচালকরা নারী অভিনেত্রীকে ডেকে এনে অপেক্ষা করান, যেন পুরুষ অভিনেতা আসা পর্যন্ত কাজ শুরু করা যাবে না। এসব অভ্যাস বদলাতে হবে। মানসিকতা পাল্টাতে হবে।”

গেল মাসে সিএনএন-নিউজ ১৮-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে কৃতি শ্যাননকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি বলিউডে পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়ে চিন্তিত?

এর উত্তরে কৃতি বলেন, ‘সমস্ত শিল্প বিবেচনা করে আমি বুঝতে পারছি না কেন পারিশ্রমিকের সমতা বিদ্যমান। কারণ, কিছু ভূমিকা এবং কাজের জন্য আপনি পুরুষ বা মহিলা, এটি কোনো ব্যাপার নয়। পারিশ্রমিক একই হওয়া উচিত। হ্যাঁ, চলচ্চিত্রে আমরা অনেক দিন ধরেই এই কথোপকথনটি করে আসছি। বিশ্বাস করুন, এটি আমাদের অন্য যে কারও চেয়ে এই বিষয়টি আমাকে বেশি মানসিক চাপ দেয়।’

একই সাক্ষাৎকারে কৃতি বলেছেন, ‘একটি নারীপ্রধান সিনেমার কাজ হাতে নিলে দেখা যায়, তাঁর বাজেট কোনোভাবেই পুরুষপ্রধান সিনেমার সমান হয় না। প্রযোজকরা ভয়ে থাকেন নারীপ্রধান সিনেমা সহজে লগ্নি তুলে আনতে পারবে কিনা– তা নিয়ে। এ বিষয়টি এমনভাবে অনেকের মাথায় গেঁথে গেছে যে, এখন সবাই ভাবে, নারীপ্রধান সিনেমা মানেই কম আয়, আর পুরুষপ্রধান সিনেমা মানেই বড় অঙ্কের লাভের সম্ভাবনা। কিন্তু আমি কোনোভাবেই এই বিষয়টি সত্যি বলে মেনে নিতে পারি না। সিনেমার সাফল্য এখন আর পুরুষ বা নারীর ওপর নির্ভর করে না– এটি বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে।’

এদিকে কৃতি শ্যানন এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিচালক আনন্দ এল রাইয়ের ‘তেরে ইশক মে’ সিনেমার কাজ নিয়ে। এতে তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার ধানুশকে। এছাড়াও তিনি কাজ করছেন ‘ককটেল ২’ সিনেমায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post আর্টপিক্সের কর্মশালায় শিল্পীদের তুলিতে জলরঙ
Next post ঢাকায় জলের গানের কনসার্ট
Close

ঢাকাই সিনেমার শ্রীদেবী, চম্পা

https://www.youtube.com/watch?v=8QBasJKBpuI বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আকাশে এমন কিছু তারকা আছেন, যাঁদের নাম উচ্চারণ করলেই একটি সময়, একটি প্রজন্ম আর অসংখ্য সিনেমার স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তাঁদের...

চিরসবুজ নায়ক জাফর ইকবাল

একটা সময় ছিল, যখন পর্দায় একজন নায়ক এলেই বদলে যেত পুরো পরিবেশ। গিটার হাতে, চোখে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস, চুলের স্টাইলে আধুনিকতার ছোঁয়া, আর মুখে এমন...

রুপালি পর্দায় পূর্ণিমার উত্থান | কিশোরী বয়সে সিনেমায়, তারপর তারকাখ্যাতি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এমন কিছু মুখ আছে, যাদের দেখলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি সময়… মনে পড়ে যায় সেইসব সিনেমার গল্প, গান আর প্রেক্ষাগৃহভরা দর্শকের উচ্ছ্বাস।...

হুমায়ূন ফরীদি | মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দা | ভিলেন থেকে কিংবদন্তি | একশিল্পীর হাজারো চরিত্র | Humayun Faridi.

বাংলা অভিনয় জগতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের শুধু অভিনেতা বললে যেন তাদের প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ তারা একটি চরিত্রে অভিনয় করেন না, বরং...

ঢালিউডের বুনো সুন্দরী পপি

সাদিকা পারভিন পপি—বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আলোচিত ও জনপ্রিয় এক নাম। রূপ, গ্ল্যামার, অভিনয় আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা সাফল্য মিলিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশক থেকে দেশের চলচ্চিত্রে নিজের...