বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নব্বইয়ের দশক ছিল পরিবর্তন ও নতুনত্বের এক উল্লেখযোগ্য সময়। সেই সময়ের জনপ্রিয় নায়কদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন চিত্রনায়ক নাঈম। সুদর্শন চেহারা, মার্জিত ব্যক্তিত্ব, স্বাভাবিক অভিনয় এবং পর্দায় রোমান্টিক উপস্থিতির কারণে খুব অল্প সময়েই তিনি দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও দর্শকের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতার বিচারে তিনি হয়ে ওঠেন নব্বই দশকের অন্যতম স্মরণীয় নায়ক। আর তাঁর নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে চিত্রনায়িকা শাবনাজের নাম। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নাঈম-শাবনাজ জুটি আজও দর্শকের কাছে এক বিশেষ আবেগের নাম।
চিত্রনায়ক নাঈমের পুরো নাম খাজা নাঈম উদ্দিন মুরাদ। ১৯৭০ সালের ৮ মে তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নবাব পরিবারের সন্তান এবং নবাব সলিমুল্লাহ খানের বংশধর। তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী এলাকা। বাবার সঙ্গে একসময় আহসান মঞ্জিলে যাতায়াত করতেন তিনি। নবাব পরিবারের ঐতিহাসিক বাড়িটি তত দিনে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। পুরান ঢাকার সঙ্গে পারিবারিক যোগাযোগ থাকলেও সেখানে বসবাস করা হয়নি তাঁর। নাঈমের বেড়ে ওঠা শাহবাগে, আর ছেলেবেলার একটি বড় সময় কেটেছে মগবাজার এলাকায়।
নাঈমের মায়ের বাড়ি টাঙ্গাইলের করটিয়ার ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারে। অন্যদিকে তাঁর বাবা বাড়ি করেছিলেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাতরাইলে। এই পাতরাইলের সঙ্গে নাঈমের সম্পর্ক কেবল পারিবারিক বা আত্মীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; শৈশব থেকেই গ্রামের প্রকৃতি, মানুষ ও পরিবেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। ছোটবেলায় নানাবাড়ি ও বাবার বাড়িতে যাতায়াতের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। সেই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে।
চলচ্চিত্রে নাঈমের আগমন অনেকটা শখের বশেই। ১৯৯১ সালে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশামের পরিচালনায় ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। সিনেমাটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন শাবনাজ। নবীন এই জুটিকে দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেন। ‘চাঁদনী’ শুধু একটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রই ছিল না, বরং বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন প্রজন্মের রোমান্টিক জুটির আবির্ভাবের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে ‘চাঁদনী’র নায়িকা হিসেবে শাবনাজের যাত্রা খুব সহজ ছিল না। শুরুতে শাবনাজকে নায়িকা হিসেবে মেনে নিতে কিছুটা আপত্তি ছিল নাঈমের। সেই আপত্তি শাবনাজের মনে এক ধরনের জেদ তৈরি করে। আর সেই জেদ থেকেই নায়িকা হওয়ার সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় হন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের গল্পও নেয় নতুন মোড়। ‘বিষের বাঁশি’ চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে ‘লাভ’ চলচ্চিত্রে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। পর্দার রোমান্টিক জুটি একসময় বাস্তব জীবনেও ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
‘চাঁদনী’র সাফল্যের পর নাঈমের চলচ্চিত্রজীবন দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। একের পর এক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘দিল’, ‘জিদ’, ‘অনুতপ্ত’, ‘সোনিয়া’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘টাকার অহংকার’, ‘ফুল আর কাঁটা’, ‘চোখে চোখে’, ‘লাভ’ এবং ‘বিষের বাঁশি’। প্রতিটি সিনেমাতেই নিজের অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের স্বতন্ত্র ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। বিশেষ করে রোমান্টিক চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। নাঈম ও শাবনাজ একসঙ্গে ২১টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁদের পর্দার রসায়ন, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকদের কাছে এই জুটিকে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।
নব্বইয়ের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে নাঈম-শাবনাজ জুটির জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখ করার মতো। তবে নাঈম নিজে কখনোই তাঁদের বাংলাদেশের প্রথম বা একমাত্র কিংবদন্তি জুটি হিসেবে বিবেচনা করতে চাননি। বরং তাঁদের আগে রাজ্জাক-কবরী এবং শাবানা-আলমগীরের মতো জনপ্রিয় জুটির কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তাঁর মতে, একটি সফল চলচ্চিত্র জুটি গড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নায়ক-নায়িকার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিনয়ের রসায়ন। সংলাপের জবাব দেওয়া থেকে শুরু করে সংলাপহীন মুহূর্তে মুখের অভিব্যক্তি—সবকিছুর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় সেই কেমিস্ট্রি, যা দর্শককে একটি জুটির প্রতি আকৃষ্ট করে।
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনার প্রতিও আগ্রহ ছিল নাঈমের। ১৯৯৪ সালে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘নাঈম প্রডাকশন’ থেকে তিনি নির্মাণ করেন ‘আগুন জ্বলে’। চলচ্চিত্রে তাঁর কাজের ধরনেও ছিল কিছুটা ভিন্নতা। তিনি বেশি সিনেমাতে অভিনয় করার চেয়ে ভালো গল্প ও মানসম্মত কাজকে গুরুত্ব দিতেন। একটি সিনেমা ব্যবসাসফল হওয়ার পর যখন তাঁর কাছে একের পর এক নতুন সিনেমার প্রস্তাব আসতে থাকে, তখনও তিনি সব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। বছরে চার-পাঁচটির বেশি সিনেমাতে কাজ করা উচিত নয় বলে মনে করতেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শুধু পর্দায় নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য গণহারে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার কোনো অর্থ নেই। বরং প্রতিটি চলচ্চিত্রের গল্প, চরিত্র ও নির্মাণের প্রতি যথেষ্ট সময় দেওয়া প্রয়োজন।
যদিও চলচ্চিত্রে নাঈমের পথচলা খুব দীর্ঘ হয়নি। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বাংলা চলচ্চিত্রে যখন অশ্লীলতা ও বাণিজ্যিক প্রবণতার কারণে চলচ্চিত্রের রুচি ও নির্মাণমান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে, তখন তিনি ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। মাত্র কয়েক বছরের অভিনয়জীবনে তিনি এমন কিছু চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছিলেন, যেগুলো দর্শকের কাছে আজও স্মরণীয়। তাঁর অভিনয়গুণের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবন না থাকা সত্ত্বেও দর্শকের মনে তাঁর স্থায়ী জায়গা তৈরি হওয়াটাই ছিল তাঁর অন্যতম বড় অর্জন।
ব্যক্তিজীবনে নাঈম ও শাবনাজের প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পায় বিয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। চলচ্চিত্রের পর্দায় যে জুটির প্রেম ও রোমান্টিক অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, বাস্তব জীবনেও তাঁরা হয়ে ওঠেন একে অপরের জীবনসঙ্গী। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান—নামিরা নাঈম ও মাহদিয়া নাঈম।
নাঈমের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো চলচ্চিত্রের বাইরে তাঁর গ্রামীণ জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। ১৯৯৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি আরও বেশি করে গ্রামের প্রতি মনোযোগী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাতরাইলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হতে থাকে। চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে আসার পর গ্রামের জীবনই হয়ে ওঠে তাঁর সময় কাটানোর অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সেখানে রয়েছে তাঁর পুকুর, যেখানে তিনি মাছ চাষ করেন। রয়েছে আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান, পশুর খামার এবং কৃষিজমি। পাশাপাশি রয়েছে তাঁতের কারখানা। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত। ব্যবসায়িক কাজের প্রয়োজনে মাসের প্রায় এক সপ্তাহ তাঁকে গ্রামে কাটাতে হয়।
গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত করেছেন নাঈম। তাঁর কাছে পাতরাইল কেবল ব্যবসা কিংবা পারিবারিক সম্পত্তির জায়গা নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি, আবেগ ও ভালোবাসার একটি ঠিকানা।
গ্রামের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। পাতরাইলে তিনি একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসজুড়ে আয়োজন করা হয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এই আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ঢাকা থেকে রিয়াজ, ফেরদৌসসহ বিভিন্ন পরিচিত তারকাও অংশ নিতেন। তাঁদের উপস্থিতিতে গ্রামীণ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা পেতো ভিন্ন মাত্রা। এ ছাড়া নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়ে আছেন নাঈম। ভবিষ্যতে এসব সেবামূলক কাজকে আরও সুসংগঠিত করতে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। তবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই তাঁর আগ্রহের জায়গা।
পারিবারিক জীবনেও নাঈম একজন দায়িত্বশীল বাবা। স্ত্রী শাবনাজ ও দুই মেয়েকে নিয়ে মাঝেমধ্যেই তিনি গ্রামে যান। বড় মেয়ে নামিরা নাঈম কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। অন্যদিকে ছোট মেয়ে মাহদিয়া নাঈমের রয়েছে সংগীতের প্রতি বিশেষ আগ্রহ। গান গেয়ে একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায়ও এসেছিলেন তিনি। শখের বশে গান করলেও ইতিমধ্যে বেশ কিছু গান তৈরি করেছেন। বড় মেয়ে নামিরার আবার আগ্রহ রয়েছে ছবি আঁকার প্রতি। নাঈম ও শাবনাজ দুজনেই মেয়েদের পড়াশোনা ও নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
চলচ্চিত্র থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও সহকর্মীদের সঙ্গে নাঈমের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। তবে এফডিসিতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত নেই। শুটিংয়েও অংশ নেওয়া হয় না। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কোনো সাংগঠনিক অনুষ্ঠান বা বিশেষ আয়োজনে আমন্ত্রণ পেলে সেখানে উপস্থিত হন। দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রের মানুষদের কাছে নাঈম ও শাবনাজের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। তাঁদের উপস্থিতিতে সহকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। কারণ তাঁদের অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও জনপ্রিয়তা ছিল অনেক বেশি।
অভিনয় থেকে সরে আসার পর নাঈম একবার ‘কাচঘর’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন। এতে অভিনয়ও করেছিলেন তিনি। তবে চলচ্চিত্রে নিয়মিতভাবে আর ফিরে আসেননি। তাঁর অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। এটি ছিল নাঈম-শাবনাজ জুটিরও শেষ চলচ্চিত্র। এরপর তাঁরা দুজনেই নিজেদের পারিবারিক জীবন, ব্যবসা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হন।
সব মিলিয়ে চিত্রনায়ক নাঈমের জীবন কেবল চলচ্চিত্রের পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়। নবাব পরিবারের ঐতিহ্য, জমিদার পরিবারের শিকড়, নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা, শাবনাজের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক— তাঁর জীবন যেন নানা অধ্যায়ের এক বৈচিত্র্যময় গল্প। তিনি হয়তো দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রে কাজ করেননি, শত শত সিনেমাতে অভিনয়ও করেননি। কিন্তু অল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই দর্শকের মনে যে ভালোবাসার জায়গা তৈরি করেছেন, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
নাঈমের নিজের দর্শনেও যেন সেই তৃপ্তির প্রতিফলন রয়েছে। অনেক বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার চেয়ে ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াকেই তিনি বড় অর্জন বলে মনে করেন। নব্বইয়ের দশকের সেই মার্জিত, রোমান্টিক ও রুচিশীল নায়ক নাঈম তাই আজও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের স্মৃতিতে এক বিশেষ নাম। পর্দার আলো থেকে দূরে চলে গেলেও তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র, শাবনাজের সঙ্গে তাঁর জুটি এবং দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে এখনো স্মরণীয় করে রেখেছে।

