সাদিকা পারভিন পপি—বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আলোচিত ও জনপ্রিয় এক নাম। রূপ, গ্ল্যামার, অভিনয় আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা সাফল্য মিলিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশক থেকে দেশের চলচ্চিত্রে নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে যেমন দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে প্রমাণ করেছেন নিজের অভিনয় প্রতিভা।

১৯৭৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন সাদিকা পারভিন পপি। চলচ্চিত্রে আসার পর অবশ্য তিনি ‘পপি’ নামেই সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তার শৈশব কেটেছে খুলনায় দাদাবাড়িতে। খুলনার মুন্নুজান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ। তবে তখনও চলচ্চিত্র তার জীবনের গন্তব্য হয়ে উঠবে—এমনটা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি।

পপির বিনোদন জগতে প্রবেশ ঘটে মডেলিংয়ের মাধ্যমে। লাক্স আনন্দ বিচিত্রার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি প্রথম বড় ধরনের পরিচিতি পান। তার সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব খুব দ্রুত দর্শক ও নির্মাতাদের নজরে আসে। আর সেই পরিচিতিই তাকে নিয়ে যায় বড় পর্দার দিকে।

১৯৯৭ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন পপি। তবে তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’। এই চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ওমর সানি। মুক্তির পর ‘কুলি’ ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করে। সেই সময় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যবসা করা ছবিটি পপির ক্যারিয়ারকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়। একজন নতুন নায়িকা হিসেবে এত বড় সাফল্য তাকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের পরিচিত মুখে পরিণত করে।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পপিকে। নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে একের পর এক বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করতে থাকেন তিনি। রিয়াজ, মান্না, রুবেলসহ সে সময়ের জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’, ‘ক্ষেপা বাসু’, ‘ওদের ধর’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকের নজর কাড়ে। বিশেষ করে মান্না প্রযোজিত ‘লাল বাদশা’ পপির ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন নিয়ে আসে। এরপর রুবেলের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায় এবং দুজন একসঙ্গে বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

বাণিজ্যিক সিনেমার সেই সময়টায় পপির সৌন্দর্য ও গ্ল্যামার ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। পর্দায় তার আকর্ষণীয় উপস্থিতি তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি করে। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তার ফ্যাশন, পোশাক ও নাচের দৃশ্যও আলোচনায় আসে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তার জনপ্রিয়তা এতটাই বাড়তে থাকে যে দেশের বাইরে থেকেও কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। বলিউডের নির্মাতা মহেশ ভাটের সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি, যদিও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সুযোগ গ্রহণ করা হয়নি।

তবে পপির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে তখন, যখন তিনি শুধু বাণিজ্যিক ছবির গ্ল্যামারাস নায়িকা হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে অভিনয়প্রধান ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সালে ‘কারাগার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এই পুরস্কার ছিল তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। কারণ এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ের গভীরতাও তার রয়েছে।

এরপর ২০০৬ সালে ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। একই সময়ে ‘রানীকুঠির বাকী ইতিহাস’-এর মতো চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে তার কাজের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যায়। শুধু নায়কনির্ভর বাণিজ্যিক গল্প নয়, সামাজিক বাস্তবতা ও চরিত্রের গভীরতাকে গুরুত্ব দেওয়া সিনেমাতেও নিজেকে তুলে ধরতে থাকেন তিনি।

২০০৮ সাল পপির অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর মুক্তি পায় নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘের কোলে রোদ’। সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে পপির অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। আর এই ছবির জন্য তিনি দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। একই সময়ে ‘কি যাদু করিলা’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি এবং এই ছবির জন্য বাচসাস পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পান।

এর পরের বছর, ২০০৯ সালে, আসে আরেকটি বড় অর্জন। সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ‘গঙ্গাযাত্রা’ চলচ্চিত্রে পপি অভিনয় করেন ধুঙ্গর নামের একটি চরিত্রে। চরিত্রটি ছিল তার আগের অনেক কাজের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর সেই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। একইসঙ্গে বাচসাস পুরস্কারেও সম্মানিত হন। একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বড় সম্মান।

পপির চলচ্চিত্র জীবন শুধু পুরস্কার পাওয়া কয়েকটি সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি ২৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বলে তার ক্যারিয়ার-তথ্যে উল্লেখ করা হয়। ‘মায়ের জন্য যুদ্ধ’, ‘টর্নেডো কামাল’, ‘ভয়ংকর সন্ত্রাসী’, ‘অন্ধকারে চিতা’, ‘রাগী’, ‘চুরমার’সহ অসংখ্য বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে তাকে দেখা গেছে। এসব সিনেমায় কখনো তিনি ছিলেন রোমান্টিক নায়িকা, কখনো প্রতিবাদী নারী, কখনো আবার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

২০১২ সালে ‘গার্মেন্টস কন্যা’ চলচ্চিত্রে ইমনের বিপরীতে অভিনয় করেন পপি। বড় বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবেও সাফল্য পায়। এরপর কিছুটা বিরতির পর ২০১৪ সালে ‘চার অক্ষরের ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রে নিরবের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ২০১৫ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘দুই বেয়াইয়ের কীর্তি’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে ‘পৌষ মাসের পিরীত’সহ আরও কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মেও অভিনয় করেছেন পপি। ‘গোধূলির দেখা আলো’, ‘আমি ভালোবাসিনি’, ‘নোটবুক’, ‘নবনীতা তোমার জন্য’, ‘নীল কষ্ট’, ‘প্রহর’ এবং ‘পলাশপুরের মেহেরজান’সহ বিভিন্ন নাটক ও টেলিফিল্মে তার অভিনয় দেখা গেছে। অর্থাৎ বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

পপির ক্যারিয়ারের আরেকটি দিক হলো বিজ্ঞাপন ও মডেলিং। যে মডেলিংয়ের মাধ্যমে তার বিনোদন জগতে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়েও সেই জগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ২০১৫ সালের শেষ দিকে এক বছরের জন্য রোমানিয়া বিস্কুটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন তিনি। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নির্দেশনায় বিজ্ঞাপনেও তাকে দেখা যায়।

সব মিলিয়ে পপির ক্যারিয়ারকে যদি এক কথায় বলতে হয়, তাহলে বলা যায়—এটি জনপ্রিয়তা থেকে স্বীকৃতির দিকে এগিয়ে যাওয়া এক দীর্ঘ যাত্রা। মডেলিংয়ের মঞ্চ থেকে শুরু করে বড় পর্দায় অভিষেক, বাণিজ্যিক সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা হয়ে ওঠা, একের পর এক সফল জুটি তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন—প্রতিটি ধাপেই রয়েছে আলাদা গল্প।

একসময় তার সৌন্দর্য ও গ্ল্যামার নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তার অভিনয়ও ততটাই আলোচনায় এসেছে। এটাই সম্ভবত পপির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। তিনি শুধু সময়ের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করেননি; নিজের অভিনয়ের পরিধিও বাড়িয়েছেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার দশকের যে সময়টি বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়, সেই সময়ের অন্যতম পরিচিত নারী মুখ ছিলেন পপি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দর্শককে দিয়েছেন অসংখ্য সিনেমা, বিভিন্ন ধরনের চরিত্র এবং মনে রাখার মতো অনেক অভিনয় মুহূর্ত। আর তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তার সেই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় স্বীকৃতিগুলোর একটি।

আজও পপির নাম উচ্চারিত হলে অনেক দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে নব্বইয়ের দশকের সেই গ্ল্যামারাস নায়িকা, আবার অনেকের কাছে তিনি ‘মেঘের কোলে রোদ’ কিংবা ‘গঙ্গাযাত্রা’র মতো চলচ্চিত্রের শক্তিশালী অভিনেত্রী। এই দুই পরিচয়ের সমন্বয়ই পপিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি আলাদা অধ্যায়ে জায়গা করে দিয়েছে।

এভাবেই মডেলিং দিয়ে শুরু হওয়া সাদিকা পারভিন পপির পথচলা তাকে নিয়ে গেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর আসনে। তার ক্যারিয়ারের গল্প তাই শুধু একজন নায়িকার গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি পরিবর্তনশীল সময়েরও গল্প—যেখানে গ্ল্যামার, বাণিজ্যিক সাফল্য এবং অভিনয়ের স্বীকৃতি একইসঙ্গে একজন শিল্পীর পরিচয় তৈরি করেছে।

আপনারা দেখছিলেন ‘তারার আলো’। পপির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোন সিনেমাটি আপনাদের সবচেয়ে বেশি মনে আছে, সেটি অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এমন আরও তারকাদের অজানা গল্প ও বিনোদন জগতের নানা তথ্য পেতে ‘তারার আলো’ চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ঢাকাই সিনেমার রাজা | নায়করাজ রাজ্জাক | প্রেম, সংগ্রাম, সাফল্য আর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প
Close

ঢালিউডের বুনো সুন্দরী পপি

সাদিকা পারভিন পপি—বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আলোচিত ও জনপ্রিয় এক নাম। রূপ, গ্ল্যামার, অভিনয় আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা সাফল্য মিলিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশক থেকে দেশের চলচ্চিত্রে নিজের...

ঢাকাই সিনেমার রাজা | নায়করাজ রাজ্জাক | প্রেম, সংগ্রাম, সাফল্য আর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু নাম শুধু অভিনেতার পরিচয় বহন করে না—তারা নিজেরাই হয়ে ওঠেন একটি যুগের নাম। যাদের পর্দায় উপস্থিতি মানেই দর্শকের মনে অন্যরকম এক...

মৌসুমী | নব্বইয়ের দশকের স্বপ্নের নায়িকা (ভিডিও)

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন কিছু নায়িকা আছেন, যাদের নাম উচ্চারণ করলেই ভেসে ওঠে একটি সোনালি সময়ের স্মৃতি। সেই তালিকার একেবারে প্রথম সারিতেই রয়েছেন মৌসুমী। একজন...

সালমান শাহ | অমর মহানায়কের অজানা গল্প (ভিডিও)

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু যাদের জনপ্রিয়তা কখনও শেষ হয়নি। সেই নামগুলোর একেবারে শীর্ষে রয়েছেন সালমান শাহ। [embed]https://www.youtube.com/watch?v=h_-pulbsd44[/embed] মাত্র...

মা হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা

টিভি নাটকের অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা জামান। গেল বছর নভেম্বরে ভালোবেসে নারায়ণগঞ্জের ছেলে রাকিবুল হাসানকে বিয়ে করেন এই অভিনেত্রী। বর পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানিকতা...