একটা সময় ছিল, যখন পর্দায় একজন নায়ক এলেই বদলে যেত পুরো পরিবেশ। গিটার হাতে, চোখে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস, চুলের স্টাইলে আধুনিকতার ছোঁয়া, আর মুখে এমন এক হাসি—যা মুহূর্তেই দর্শকের মন জয় করে নিত। আজ যে তারকার কথা বলছি তিনি শুধু নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটা প্রজন্মের স্বপ্ন। তার গান শুনে তরুণরা মুগ্ধ হতো, তার পোশাক অনুকরণ করত, আর সিনেমার পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ছিল অন্যরকম এক উত্তেজনা। অথচ এত জনপ্রিয়তা, এত প্রতিভা, এত সম্ভাবনা—সবকিছু পেয়েও মানুষটি চলে গেলেন মাত্র ৪১ বছর বয়সে।

https://www.youtube.com/watch?v=j-QARQ8_aLY

তিনি জাফর ইকবাল। বাংলা চলচ্চিত্রের সেই চিরসবুজ, স্টাইলিশ নায়ক—যিনি একই সঙ্গে ছিলেন গায়ক, গিটারবাদক, অভিনেতা এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। খুব অল্প সময়ে তিনি এমন এক নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছিলেন, যা আজও তাকে অন্যসব নায়কের ভিড় থেকে আলাদা করে রাখে।

কীভাবে সংগীতের জগৎ থেকে চলচ্চিত্রে এলেন জাফর ইকবাল? কীভাবে হয়ে উঠলেন সেই সময়ের তরুণদের স্টাইল আইকন? তার জীবনে কি সত্যিই ছিল কোনো অসমাপ্ত প্রেমের গল্প? আর মাত্র ৪১ বছর বয়সে কেন থেমে গেল এই অসাধারণ শিল্পীর জীবন? আজকের গল্প সেই জাফর ইকবালের—যার জীবন ছিল সাফল্য, জনপ্রিয়তা, গান, সিনেমা, ভালোবাসা আর এক করুণ পরিণতির অনন্য গল্প।

১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন জাফর ইকবাল। সংগীতের আবহেই তার বেড়ে ওঠা। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ ছিলেন দেশের অন্যতম পরিচিত সুরকার ও সংগীত পরিচালক। আর ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ ছিলেন বাংলা গানের জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। ফলে গান তার কাছে শুধু বিনোদনের বিষয় ছিল না, বরং ছোটবেলা থেকেই জীবনেরই একটি অংশ হয়ে উঠেছিল। কৈশোরেই তিনি সংগীতের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। পশ্চিমা সংগীতের প্রতি তার ছিল বিশেষ দুর্বলতা, আর এলভিস প্রিসলি ছিলেন তার প্রিয় শিল্পীদের একজন। গিটার হাতে ইংরেজি গান গাওয়ার মধ্য দিয়েই তৈরি হতে থাকে তার নিজস্ব সংগীত পরিচয়।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি বন্ধুদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘রোলিং স্টোন’। সেই সময় বাংলাদেশের সংগীতজগতে এমন ব্যান্ডের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নতুন ধরনের ব্যাপার। জাফর ইকবাল ছিলেন ব্যান্ডটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। গিটার বাজিয়ে ইংরেজি গান গাওয়া, নিজস্ব পোশাকের ধরন আর একেবারে আলাদা ব্যক্তিত্ব তাকে তখনকার তরুণদের মধ্যে পরিচিত করে তুলতে শুরু করে। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে আসার পরও তার এই সংগীতসত্তা কখনো হারিয়ে যায়নি।

চলচ্চিত্রে তার যাত্রাও খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ চলচ্চিত্রে কবরীর বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। সিনেমাটিতে তার উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়ে এবং ‘যা রে যাবি যদি যা’ গানটিও জনপ্রিয়তা পায়। তবে এরপরই তার জীবনে আসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশ নেন। একজন শিল্পী হয়েও তিনি তখন দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। স্বাধীনতার পর যখন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন জাফর ইকবালও ধীরে ধীরে নিজেকে একজন শক্তিশালী চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকেন।

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিত অভিনয় শুরু করার পর তার ক্যারিয়ারে আসে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। ‘সূর্য সংগ্রাম’ এবং এর পরের ছবি ‘সূর্য স্বাধীন’-এ ববিতার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ‘মাস্তান’ যেন তাকে একেবারে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই সিনেমার পর জাফর ইকবাল হয়ে ওঠেন সেই সময়ের অন্যতম স্টাইলিশ ও দাপুটে নায়ক। রাগী, রোমান্টিক, কিছুটা বেপরোয়া কিংবা জীবনের সঙ্গে লড়াই করা তরুণ—এ ধরনের চরিত্রে তিনি এমন এক স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী তৈরি করেছিলেন, যা তখনকার প্রচলিত নায়ক চরিত্র থেকে তাকে আলাদা করে দেয়।

জাফর ইকবালের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার স্বাভাবিক উপস্থিতি। অভিনয়ের সময় তিনি অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত নাটকীয়তার আশ্রয় নিতেন না। তার চোখের অভিব্যক্তি, কথা বলার ধরন, হাঁটার ভঙ্গি এবং সংলাপ বলার নিজস্ব স্টাইলই চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স। চুলের স্টাইল, পোশাক, গলায় স্কার্ফ, হাতে গিটার কিংবা পর্দায় তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে তিনি শুধু নায়ক ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন একটি সময়ের স্টাইল আইকন।

রোমান্টিক চরিত্রেও জাফর ইকবাল ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‘নয়নের আলো’ তাকে দর্শকদের কাছে আরও বহুমাত্রিক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। শহুরে স্টাইলিশ তরুণের পাশাপাশি গ্রামীণ তরুণের চরিত্রেও তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন। এ কারণেই তার অভিনীত চরিত্রগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শকের কাছে আটকে থাকেনি। তরুণ প্রজন্ম তাকে যেমন পছন্দ করত, তেমনি সাধারণ দর্শকের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক।

ববিতার সঙ্গে জাফর ইকবালের জুটি ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। প্রায় ত্রিশটি চলচ্চিত্রে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। পর্দায় তাদের রসায়ন এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে একটা সময় তাদের নিয়ে বাস্তব জীবনেও নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা শোনা গেলেও, সেসবকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য স্বীকারোক্তি পাওয়া যায় না। তবে পর্দায় তাদের জুটির জনপ্রিয়তা যে অসাধারণ ছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরণী’ গানটিকেও অনেকে ববিতাকে ঘিরে নানা আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন, কিন্তু এটিও মূলত গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

জাফর ইকবালের অভিনয়জীবনে ‘অবুঝ হৃদয়’ ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের এই সিনেমায় তার সঙ্গে ছিলেন চম্পা ও ববিতা। দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ছবিটি প্রশংসা পায় এবং জাফর ইকবালের অভিনয়ও নতুন করে আলোচিত হয়। এর বাইরে ‘ভাই বন্ধু’, ‘চোরের বউ’, ‘অবদান’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘একই অঙ্গে এত রূপ’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘবিজলী বাদল’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘প্রেমিক’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’ এবং ‘উসিলা’র মতো অনেক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন। সব মিলিয়ে তার অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা প্রায় দেড়শর কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয় এবং এর বড় একটি অংশই ছিল ব্যবসাসফল।

অভিনয়ের পাশাপাশি জাফর ইকবালের সংগীত পরিচয়ও ছিল আলাদা মাত্রার। তার কণ্ঠে ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ গানটি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরণী’, ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’সহ আরও বেশ কিছু গান মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার অডিও অ্যালবাম ‘কেন তুমি কাঁদালে’ প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনেও তিনি গান পরিবেশন করেছেন। বিটিভির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে তার গাওয়া ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটিও শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিত হয়ে ওঠে।

অনেকেই হয়তো জানেন না, জাফর ইকবাল শুধু গায়কই ছিলেন না, তিনি মূলত একজন দক্ষ গিটারবাদকও ছিলেন। চলচ্চিত্রের সংগীতেও তার এই দক্ষতার ব্যবহার হয়েছে। সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাকে বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সংগীতায়োজনে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজে যুক্ত করেছিলেন। ফলে সিনেমার পর্দায় অভিনয় করা জাফর ইকবালের পাশাপাশি পর্দার আড়ালেও সংগীতের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

নিজের অভিনয়জীবনের পাশাপাশি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ‘প্রেমিক’ চলচ্চিত্রটি তিনি প্রযোজনা করেন। অর্থাৎ অভিনয়, গান, গিটার এবং চলচ্চিত্র প্রযোজনা—বিনোদন জগতের একাধিক ক্ষেত্রেই নিজের প্রতিভার পরিচয় রেখেছিলেন এই শিল্পী।

ব্যক্তিজীবনে জাফর ইকবাল বিয়ে করেছিলেন সোনিয়াকে, যিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনের বাইরের মানুষ ছিলেন। তাদের দুই ছেলে ছিল। তবে জীবনের শেষদিকে তার ব্যক্তিগত জীবন নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ পাওয়া যায়। তার জীবনযাপন নিয়েও নানা আলোচনা ছিল। একই সময়ে তার শরীরে বাসা বাঁধে গুরুতর অসুস্থতা। ক্যানসারের সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হয় এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। যে মানুষটি একসময় গিটার হাতে মঞ্চ মাতিয়েছেন, ক্যামেরার সামনে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন, তার জীবন তখন ক্রমেই অসুস্থতার কাছে কঠিন হয়ে উঠছিল।

তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র ছিল ‘লক্ষ্মীর সংসার’। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি ক্যামেরার সামনে ছিলেন। এই সিনেমার একটি সংলাপ—‘ভাই আজিমপুর যাব কীভাবে?’—আজও তার শেষ দিকের কাজের স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই থেমে যায় তার জীবনের পথচলা।

১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন জাফর ইকবাল। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তার জীবনাবসান ঘটে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তখনও তাকে আরও অনেক বছর দেখতে পারত, আরও অনেক চরিত্রে তাকে পাওয়া যেত, আরও অনেক গান হয়তো তার কণ্ঠে শুনতে পারত দর্শক-শ্রোতা। কিন্তু নিয়তি তাকে সেই সুযোগ দেয়নি।

জাফর ইকবালের জীবন তাই শুধু একজন নায়কের জীবনের গল্প নয়। এটি এমন একজন শিল্পীর গল্প, যিনি নিজের সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন। যখন গিটার হাতে একজন নায়ক, ইংরেজি গান গাওয়া, আধুনিক পোশাক, আলাদা চুলের স্টাইল আর স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের তরুণদের কাছে নতুন এক আকর্ষণ তৈরি করছিল, তখন জাফর ইকবাল সেই পরিবর্তনেরই অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন রোমান্টিক নায়ক, ছিলেন দাপুটে নায়ক, ছিলেন গায়ক, ছিলেন গিটারবাদক, ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। সবকিছু মিলিয়ে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা এক ব্যক্তিত্ব।

সময়ের সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের অনেক নায়ক এসেছেন, অনেকেই জনপ্রিয় হয়েছেন, আবার সময়ের স্রোতে অনেকেই হারিয়েও গেছেন। কিন্তু জাফর ইকবালের ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন ভিন্ন। তিনি চলে যাওয়ার পরও তার সেই স্টাইল, তার গিটার, তার গান, তার অভিনয় আর তার হাসিমাখা মুখ বারবার ফিরে আসে পুরোনো দিনের সিনেমা ও স্মৃতির ভেতর দিয়ে। আজকের প্রজন্মের অনেকেই হয়তো তাকে সরাসরি সিনেমা হলে দেখেনি, কিন্তু পুরোনো চলচ্চিত্রের পর্দায় তাকে দেখলে সহজেই বোঝা যায়—কেন একসময় জাফর ইকবাল নামটি ছিল তরুণদের কাছে এতটা আকর্ষণীয়।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু মানুষ সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়ে যান, আর কিছু মানুষ সময়কে পেরিয়ে স্মৃতির অংশ হয়ে থাকেন। জাফর ইকবাল সেই দ্বিতীয় দলের মানুষ। মাত্র চার দশকের জীবনে তিনি যে জনপ্রিয়তা ও প্রভাব তৈরি করেছিলেন, তা আজও তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় স্টাইলিশ নায়ক হিসেবে বাঁচিয়ে রেখেছে। তিনি নেই, কিন্তু তার অভিনয় আছে, তার গান আছে, তার গিটারের সুরের স্মৃতি আছে, আর আছে সেই চিরচেনা স্টাইল—যা তাকে আজও অন্য সবার থেকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। জাফর ইকবাল তাই শুধু একটি নাম নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ সময়ের প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post রুপালি পর্দায় পূর্ণিমার উত্থান | কিশোরী বয়সে সিনেমায়, তারপর তারকাখ্যাতি
Close

রুপালি পর্দায় পূর্ণিমার উত্থান | কিশোরী বয়সে সিনেমায়, তারপর তারকাখ্যাতি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এমন কিছু মুখ আছে, যাদের দেখলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি সময়… মনে পড়ে যায় সেইসব সিনেমার গল্প, গান আর প্রেক্ষাগৃহভরা দর্শকের উচ্ছ্বাস।...

হুমায়ূন ফরীদি | মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দা | ভিলেন থেকে কিংবদন্তি | একশিল্পীর হাজারো চরিত্র | Humayun Faridi.

বাংলা অভিনয় জগতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের শুধু অভিনেতা বললে যেন তাদের প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ তারা একটি চরিত্রে অভিনয় করেন না, বরং...

ঢালিউডের বুনো সুন্দরী পপি

সাদিকা পারভিন পপি—বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আলোচিত ও জনপ্রিয় এক নাম। রূপ, গ্ল্যামার, অভিনয় আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা সাফল্য মিলিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশক থেকে দেশের চলচ্চিত্রে নিজের...

ঢাকাই সিনেমার রাজা | নায়করাজ রাজ্জাক | প্রেম, সংগ্রাম, সাফল্য আর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু নাম শুধু অভিনেতার পরিচয় বহন করে না—তারা নিজেরাই হয়ে ওঠেন একটি যুগের নাম। যাদের পর্দায় উপস্থিতি মানেই দর্শকের মনে অন্যরকম এক...