সিঙ্গাপুর ভ্রমণ : কিভাবে যাবেন, কেমন খরচ, কি কি দেখবেন

Spread the love

মাত্র ৪০ থেকে ৫০ বছরের ব্যাবধানে অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ থেকে একটি পরিপূর্ণ উন্নত দেশে পরিণত হয়ে সিঙ্গাপুর। এটি একটি চমক। ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্ত সিঙ্গাপুর ছিল অগোছালো, নিয়ন্ত্রনহীন এবং সংঘাতে পরিপূর্ণ একটি দেশ। কিন্তু তাঁরা সেখানে থেমে থাকেনি। যুগোপযোগী পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা আজ নিজেদের দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তা এখন বিভিন্নও দেশের পর্যটকদের কাছে এক দারুণ আকর্ষণের নাম।

মূলত ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা লাভ করে। ৭১৬ বর্গ কিলোমিটারের দেশটি ছিল এক কথায় অপরাধ ও দারিদ্রতায় জর্জরিত একটি মৎস্য ব্যাবসা কেন্দ্র। ক্ষুদ্র এই নগর রাষ্ট্রের উল্লেখ করার মত কিছুই ছিল না। প্রাকৃতিক সম্পদই দেশের উন্নয়নের একমাত্র চাবি কাঠি। সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক সম্পদ ছিলনা বললেই চলে। মালয় এবং চীনাদের ভিতরের কোন্দলের কারণে আইন শৃঙ্খলার অবস্থাও ছিল বেশ খারাপ। এক কথায় তখনকার সিঙ্গাপুর আর এখনকার সিঙ্গাপুরের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ ছিল।

সব কিছু পিছনে ফেলে সিঙ্গাপুর আজ পৃথিবীর ২২তম ধনি দেশ। সিঙ্গাপুরের জীবন যাত্রার মান উন্নতির দিক থেকে এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ।

সিঙ্গাপুরে কি দেখবেন :
সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা, মারলায়ন পার্ক, সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার, সিঙ্গাপুর ইতিহাস যাদুঘর বা হিস্টোরি মিউজিয়াম, চায়না টাউন, বুদ্ধের দন্ত সংরক্ষিত যাদুঘর বা টুথ রেলিক মিউজিয়াম, সিঙ্গাপুর টুথ রেলিক মিউজিয়াম, গার্ডেনস বাই দ্য বে, র‍্যাফেলস হোটেল, সেন্তোসা আইল্যান্ড ইত্যাদি।

কখন বেড়াতে যাবেন :
দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে অবস্থানের কারণে সিঙ্গাপুরে তাপমাত্রা এবং আদ্রতা দুইই বেশী থাকে প্রায় সারা বছরই। একারণে বছরের যেকোনো সময়েই আপনি সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে পারেন।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সবচাইতে বেশী পর্যটক সমাগম ঘটে সিঙ্গাপুর এ। এই সময় গেলে আপনি অনেক উৎসব এবং ইভেন্টে যোগ দিতে পারবেন। এর মধ্যে বিখ্যাত সিঙ্গাপুর সেল ফেস্টিভাল (বিক্রয় উৎসব) আর ফুড ফেস্টিভাল অন্যতম। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এই সময়ে ভিড় কম থাকে এবং আবহাওয়া বেশ নাতিশীতোষ্ণ থাকে। সিঙ্গাপুরে বর্ষাকাল থাকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। যদি বৃষ্টি এড়াতে চান তাহলে এই সময়ে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ না করাই ভাল হবে।

কিভাবে যাবেন সিঙ্গাপুর
ঢাকায় সিঙ্গাপুরের কনস্যুলেট আছে ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকে সিঙ্গাপুরের ভিসা দেয়া হয় না। ভিসার জন্যে বেশ কিছু অনুমোদিত এজেন্ট আছে, সেখান থেকে ভিসা করে নিতে পারেন। ভিসা পেতে হলে আপনাকে অবশই সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত কারও কাছ থেকে আমন্ত্রন পেতে হবে। ভিসা ফি ৩০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার।

বিমান টিকিট সংক্রান্ত তথ্য :
ঢাকা থেকে বিমানে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। সরাসরি অথবা ওয়ান স্টপ ফ্লাইট পাবেন। জেট এয়ার ওয়েজ, মালিন্দ এয়ার, বিমান বাংলাদেশ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স ইত্যাদি বিভিন্নও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার বিমানে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ পরবে ১৭,৬৪০ টাকা থেকে ২১,২২২ টাকা। দেশীয় বিমান সংস্থার মধ্যে রিজেণ্ট এয়ারলাইন্স, ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স, ও বাংলাদেশ বিমানে যেতে পারবেন। খরচ পরবে ১৬,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। কম বেশি হতে পারে।

কোথায় থাকবেন :
সিঙ্গাপুর ভ্রমনে গেলে অবশ্যই কয়েকদিন থাকতে হবে আপনাকে। যদি আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব না থাকে, সে ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই হোটেলের খোজ খবর আগে থেকেই নিয়ে রাখতে হবে। সব থেকে ভাল হয় যদি অগ্রিম বুকিং দিয়ে যেতে পারেন, সেক্ষেত্রে খরচও কিছুটা কমবে।

সিঙ্গাপুরের সেরা হোটেলের লিস্ট :
ইন্টার কণ্টীনেণ্টাল সিঙ্গাপুর, ফোর সিজন্স সিঙ্গাপুর, ম্যান্ডারিন ওরিয়েন্টাল, দ্য ফুলারটন হোটেল, দ্য রিজ কার্লটন মিলেনিয়া,
শাংরি লা হোটেল, নাউমি হোটেল, পার্ক রয়্যাল অন পিকারিং, সেন্ট রেজিস হোটেল, হোটেল ইণ্ডিগো সিঙ্গাপুর।