চলো যাই মিশরে

Spread the love

নীলনদ, ফারাও, পিরামিড, মমি আর প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস বিজড়িত দেশ মিশর। নীল নদের তীরে অবস্থিত মিশরের প্রতিটি জায়গায় জড়িয়ে আছে প্রাচীন ইতিহাসের গন্ধ। মিশর যেমন প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী দেশ, তেমনি এক আধুনিক রাষ্ট্রও। আফ্রিকা মহাদেশের প্রান্ত দেশে অবস্থিত এই দেশটি এশিয়ার সাথেও সংযুক্ত।

নীলনদ আর পিরামিডের দেশ মিশরের রহস্য আর মায়াজালের যেন কোনো শেষ নেই। আর তাই প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ এই দেশটি পর্যটকদের কাছে দারুণ এক আকর্ষণের নাম। এখানে আছে বিভিন্ন ধরণের মনুমেন্ট, পিরামিড, বিখ্যাত নীলনদ, স্ফিংস এর মূর্তি এবং প্রাচীন ফারাও রাজাদের আবাসস্থল। পর্যটকদের জন্য অনেক কিছুই দেখার আছে মিশরে। কালচার, অ্যাডভেঞ্চার ও সমৃদ্ধ এক্সপেরিয়েন্সের জন্য মিশর হতে পারে আপনার জন্য অনন্য এক ভ্রমণ গন্তব্য।

১. গিজার পিরামিড:
মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড আপনার মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখেন। প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড। মিশরের রাজাদের সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড। মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে। কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর গিজার পিরামিড অবস্থিত। গির্জাতে আছে ৩টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড। এই বৃহৎ পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই বিখ্যাত মূর্তি আছে যার দেহটি সিংহ এর ও মাথাটি মানুষের। এটি এক অনন্য নিদর্শন।

২. নীলনদ:
মিশরে বসবাসকারী মানুষদের কাছে নীল নদ এক রক্ষাকর্তা স্বরূপ। নীল নদ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। নীল নদের বুকে বিস্ময়কর জাহাজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে দারুণ ব্যাপার। নীল নদে জাহাজ ভ্রমণের মাধ্যমেই আপনি ইতিহাসের মিশরীয় মন্দিরগুলি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। এই জাহাজ ভ্রমণে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বালিয়াড়ির সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবে।

৩. কারনাক ট্যাম্পেল:
মিশরের অনেক আকর্ষণীয় মন্দির গুলোর মধ্যে কারনাক মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন। কারনাক মন্দিরটি প্রাচীন বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা। এটি মূলত একটি মন্দিরের শহর যা ২০০০ বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিস্ময়গুলোর একটি। কারনাক প্রায় ২০০ একর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। ৪০০০ বছরেরও বেশী সময় ধরে এটি তীর্থযাত্রার স্থান ছিল। এখন এটি একটি অনন্য পর্যটনস্থল।

৪. আবু সিম্বেল মন্দির:
মিশরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ আবু সিম্বেল মন্দির মিশরের দক্ষিণাঞ্চলে লেক নাসের এর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এই মন্দির “নূবিয়ান মনুমেন্ট” নামেও পরিচিত। দুটি বিশাল আকৃতির পাথর কেটে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। ১৩’শ শতকে এই জোড়া মন্দিরটি ফারাও রাজা রামেসেসের দ্যা গ্রেট নিজের ও তার স্ত্রী নেফারতারির সমাধির জন্য নির্মাণ করেছিলেন। এটি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রূপে ঘোষিত হয়েছে। এই মন্দির দেখার জন্য প্রচুর পর্যটকদের সমাগম ঘটে এখানে।

৫. ভ্যালি অফ দা কিং:
প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর লুক্সর এর তীর ঘেঁষে বয়ে চলা নীল নদের পশ্চিম পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এলাকার নামই হলো ‘’ভ্যালী অব কিংস‌”। এটি একটি উপত্যকা যা মিশরের রাজা ও রাজার পরিষদবর্গের জন্য নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই উপত্যকায় ৬৩ টি সমাধি ও ১২০ টি প্রকোষ্ঠ দেখতে পাবেন। রাজকীয় সমাধিটি চমৎকার মিশরীয় পুরাণের কাহিনীর দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে যা দেখে প্রাচীন যুগের বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই জায়গা চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা যার পেছনে নীল নদ ও সামনে মরুভূমি । অপরূপ সুন্দর এই জায়গাটি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।

এছাড়া কায়রো’র মিশরীয় জাদুঘরের চমক তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে নীলনদে নৌকা ভ্রমণ করে ঘুরে আসতে পারেন দেন্দারা থেকে। সমুদ্র প্রিয় টুরিস্টদের জন্যেও মিশরের রয়েছে নানা আয়োজন। এখানকার নির্জন সৈকতের কেবিনগুলোতে মোমবাতির আলোয় বসে বসে হারিয়ে যেতে পারবেন আরও গভীরে। কারণ এখানে রয়েছে সমুদ্র তীরবর্তী পরিপূর্ণ প্রবাল প্রাচীর।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মিশরে ওয়ান স্টপ (একটি স্টপেজ) ও মাল্টি স্টপ (একাধিক স্টপেজ) ফ্লাইতে ভ্রমণ করা যায়। ঢাকা থেকে কায়রো গামী এসব ফ্লাইটের মূল্য ৫৭,০০০ থেকে ৬৫,০০০ টাকার মধ্যে (কম বেশি হতে পারে)।

ভিসা
ভিসা ফি ৬০০০ টাকা (কম বেশি হতে পারে)। সাধারণত ৭ থেকে ৯ কর্ম দিবসের মধ্যে ভিসা প্রসেসিং এর কাজ সম্পন্ন হয়।

ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অরিজিনাল পাসপোর্ট
ভ্রমণের দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে
ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টের ৬ মাসের স্টেটমেন্ট; কমপক্ষে ১০০,০০০ টাকা (জনপ্রতি) ট্রানজেকশন দেখাতে হবে, ফ্যামিলি ট্যুরের ক্ষেত্রে ৩,০০,০০০ টাকা।
সাম্প্রতিককালে তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হতে হবে।
কোম্পানি লেটার-হেড (Forwarding Letter)
কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্সের কপি (নোটারি ও ট্রান্সলেশন সহ)
ভিজিটিং কার্ড
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের কপি।

এছাড়া আরও কিছু কাজ রয়েছে যা আপনি ভ্রমণের জন্য মন স্থির করলেই জেনে যাবেন।