‘সে আমাকে অফিস কক্ষেই ধর্ষণের চেষ্টা করে’

Spread the love

মাকসুদা আখতার প্রিয়তি। তিনি আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত একজন বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত মডেল, অভিনেত্রী। সেই সঙ্গে পাইলট। প্রিয়তি ফেসবুকে ২৯ অক্টোবর প্রথম একটি পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশের রঙধনু শিল্প গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। মাকসুদা আখতার প্রিয়তি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে আইরিশ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি, যা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাবে। তবে এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম এ অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছেন, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু প্রিয়তি ৩০ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলেন। ওই ভিডিওতে তিনি জানান, ‘ইসলাম ২০১৫ সালের মে মাসে ঢাকায় তার অফিস কক্ষেই অশালীনভাবে তার দেহের বিভিন্ন অংশ স্পর্শ করেন এবং পরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।’ এই ভিডিওটি এখন ফেসবুকে ভাইরাল। ভিডিওটিতে প্রিয়তি বলেন, ‘রফিকুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানের একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার সূত্রে তার সাথে পরিচয় হয় তার। এর পর তিনি একদিন ইসলামের অফিসে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে ওই ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, রফিকুল ইসলাম যা করেছেন তাকে যৌন হয়রানি বা আক্রমণ বললে কম বলা হয়, তিনি তার চেয়ে বেশি করেছেন, তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটে ইসলামের ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত’ অফিস কক্ষে। তার সঙ্গে আরেকজন মহিলা ছিলেন যিনি উভয়ের পরিচিত, তবে ইসলাম একান্তে কথা বলার কারণ দেখিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। এর পর তিনি আমার জামার ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেন।

তারপর আমাকে টেবিলের ওপর ফেলে সারা শরীরে নোংরাভাবে হাত দেন, কাপড়ের নিচের অংশ খুলতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল আমি কিভাবে এখান থেকে বের হবো। আমি জানি চিৎকার করে কোন লাভ হবে না কেউ শুনবে না।আমার ব্রেন কাজ করছিল না।’ প্রিয়তি বলেন, এর পর রেহাই পাবার জন্য তিনি বলতে থাকেন যে ইসলাম যা চাইছেন তাতে তিনি সম্মতি দিচ্ছেন- কিন্তু ‘অন্য একদিন সময় নিয়ে আসার’ কথা বলেন। প্রিয়তি বলেন, এর পর রফিকুল ইসলাম শান্ত হন এবং বলেন, তিনি তার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। এভাবেই তিনি রফিকুল ইসলামের কক্ষ থেকে বেরুতে সক্ষম হন এবং সেই মহিলাকে কি হয়েছে খুলে বলেন। কিন্তু তার সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিল না বলে উল্লেখ করেন প্রিয়তি। এদিকে রফিকুল ইসলামের বক্তব্য, এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি, প্রিয়তিকে তিনি চেনেন না। তার প্রতিষ্ঠানে পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য অনেক মডেল কাজ করে, তাদের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগও হয় না। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাকে আমার সামনাসামনি করেন এবং একটা এভিডেন্স তাকে দেখাতে বলেন যে তার সাথে এরকম কোন আচরণ আমি করেছি।