নৃত্যের অন্তরালে নারী পাচার, ধরা খেলেন সোহাগ

Spread the love

নারী পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্রিফ করেন।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, দুবাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মাসে মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা আজম খান এবং তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নৃত্যশিল্পী সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে আজম খান ও তার সহযোগীরা বলেছেন, এই চক্র মূলত ‘নৃত্যকেন্দ্রিক’। কয়েকজন নৃত্য সংগঠক ও শিল্পী এই নেটওয়ার্কের অংশ। জড়িত আছেন ছোটখাটো ক্লাবের কর্ণধারেরাও। ছোটখাটো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের যেসব নৃত্যশিল্পী গায়েহলুদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নাচ করেন, তারাই ছিলেন এই পাচারকারী চক্রের প্রধান টার্গেট। দেশের বেশ কিছু জেলায় তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।

সিআইডি জানায়, গত ২ জুলাই আজম খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মৃণাল কান্তি দাশ। ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেনেখানো হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এবার জেননিন কে এই ইভান শাহরিয়ার সোহাগ?

নিজের নামে অর্থাৎ সোহাগ ড্যান্স ট্রুপ নামে তার একটি ড্যান্স কোম্পানি রয়েছে। যেটি তিনি পরিচালনা করেন। বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠানের নাচে অংশ নেয় তার দল। ২০১৭ সালে নির্মিত ধ্যাততেরিকি নামে একটি সিনেমায় নৃত্য পরিচালনার জন্য ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

কিন্তু এর বাইরে রয়েছে তার অন্ধকার জগৎ। মিডিয়ার এমন কোন তারকা নেই যার সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। নিয়মিত তিনি তারকােদর সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। আর সেই ছবি পোস্ট করেন ফেসবুকে। নাচের মানুষ হয়েও চলেন সব শ্রেণীর তারকাদের সঙ্গে। যা দেখে অন্য সব নতুন মডেল তার খাঁচায় ধরা দেয়।

নৃত্যকে পুঁজি করে অপরাধ জগতের সঙ্গে সোহাগ জড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। তবে তা এতোদিন চেখের আড়ালেই ছিল। অবশেষে তার একটি রূপ এসে ধরা পড়েছে দেশের আইনশৃংখলা বাহিনির কাছে।

অনেকই বলছেন সোহাগ নৃত্যকে পুঁজি করে বড় ধরণের অপরাধ কর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অর্থ ও খ্যাতির আশায়।

এদিকে সোহাগের জামিন মেলেনি। রোববার (সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তার এ আদেশ দেন।

ইভানকে গত শনিবার আদালত কারাগারে পাঠান। ওইদিন আদালত তার জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন। সেই আবেদন শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এদিকে, দুবাইয়ে নারী পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে দেশের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেকের নাম প্রকাশ করছেন তিনি। সেখানে উঠে এসেছে অন্য এক কোরিওগ্রাফার গৌতম সাহার নাম।

এরপর বেশকিছু গণমাধ্যম গৌতমকে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার দাবি করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ বিব্রত অপু বিশ্বাস। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি গৌতম সাহা তার ম্যানেজার নন বলে দাবি করেছেন।

অপরদিকে, গৌতম সাহাও এনিয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তিনিও বলেন, তিনি কারও ম্যানেজার নন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন অপু বিশ্বাস।

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, [আমি একজন অভিনেত্রী হিসেবে মিডিয়াতে কমবেশি সবার সঙ্গে কাজের জন্য যোগাযোগ করতে হয়।

আরেকটা কথা ক্লিয়ার ভাবে বলতে চাই আমার কোন ব্যক্তিগত মিডিয়া ম্যানেজার নেই, পরিচিতজনের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের মিটিং বা কাজের প্রপোজাল পাই।

আজকে কিছু নিউজে দেখছি যে ‘অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার’ এভাবে কিছু নিউজ এর শিরোনাম দেয়া হচ্ছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ এইসব নিউজে আমার নাম জড়িয়ে আমাকে বিব্রত করবেন না।

আমি আবারও ক্লিয়ার করে বলতে চাই- আমার ব্যক্তিগত কোনো মিডিয়া ম্যানেজার নেই।

যে নিউজটি আপনারা অলরেডি করেছেন আমার নাম জড়িয়ে, তারা দয়া করে কারেকশন করুন নতুবা আমি সাইবার ক্রাইম ডিভিশনে লিখিত অভিযোগ দিব। ধন্যবাদ।

অপরদিকে, গৌতম সাহা লেখেন- [সকালে একটা খবর দেখে অবাক হয়েছি। আমি বাংলাদেশের সব আর্টিস্টদের সাথে কাজ করছি।কাজের ক্ষেত্রে ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে চিনি। কাজের সূত্র ধরে কয়েকবার দেখাও হয়েছে। কাজের বাইরে কখনো দেখা বা কথা হয়নি। আর একটি গণমাধ্যমে যে সংবাদ এসেছে সেটি একেবারে ভিত্তিহীন। আমি দুবাইয়ে কোনো নৃত্যশিল্পীকে পাঠায়নি। আমি কোনো নৃত্য কোরিওগ্রাফারও নই। আমি যতবার বিদেশ গেছি, তা রেকর্ড রয়েছে। দুবাইয়ে আমি কোনো শো করিও নাই কখনও। আরেকটি কথা, আমি কারো ম্যানেজার নই। সবার কাছে অনুরোধ থাকবে আমার নাম জড়িয়ে আমাকে বিব্রত করবেন না।