চিত্রনায়ক শাকিব খানের জীবন কাহিনী (ভিডিও)

Spread the love

শাকিব খান। একজন বাংলাদেশী জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক। তার প্রকৃত নাম মাসুদ রানা হলেও তিনি শাকিব খান নামে চলচ্চিত্রাঙ্গনে আবির্ভূত হন। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত অনন্ত ভালবাসা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা।

শাকিব খান ২৮ মার্চ ১৯৭৯ সালে ঢাকায় একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। শাকিব খানের আদি নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে তার শৈশব কৈশোর থেকে বেড়ে ওঠা নারায়নগঞ্জ জেলায়। তার বাবা আব্দুর রব ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী এবং মাতা নূরজাহান একজন গৃহিণী। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন এক বোন ও এক ভাই। 

শাকিব খানের ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। সাইন্সের ছাত্র ছিলেন তিনি। সবসময় বুকে লালন করতেন ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করবেন। এর বাইরে যে অপশনটি তার মধ্যে কাজ করত তা হলো ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। খুব পছন্দ ছিল এই পেশাটিও। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর হঠাৎ করেই যেন ছোটবেলার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে থাকল। 

ক্লাস নাইনে থাকতে মার্শাল আর্টের ভক্ত হয়ে পরেন। নারায়ণগঞ্জে বাড়ির পাশে কেল্লার মাঠে মার্শাল আর্টে ভর্তিও হয়ে যান। বাবা মা-এর একমাত্র আদুরে সন্তানে স্বপ্ন যেন আস্তে আস্তে বেড়িয়ে আসছে। এসএসসির পর কিছু বন্ধুকে ভালো নাচতে দেখে নিজেও উৎসাহী হন নাচে। ভাগ্যটা যেন তখনি ঘুরতে লাগল। খুঁজতে থাকেন নাচের ক্লাস। পেয়েও যান। তার নাচের শিক্ষক ছিলেন আজিজ রেজা। আর তারই আদর স্নেহে এফডিসি পর্যন্ত পৌছান শাকিব। 

আবুল খায়ের বুলবুলের পরিচালনায় শাকিবের প্রথম সিনেমা ‘সবাইতো সুখি হতে চায়’। এ সিনেমার শুটিং শেষ না হতেই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডের পরিচালক প্রযোজকদের মাঝে। সবাই বলাবলি করে, ছেলেটি ভালো ফাইট করে। নাচে দুর্দান্ত, দেখতে সুন্দর আর একটু দেখিয়ে দিলো ভালো অভিনয় করবে।

তার প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’। এটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৮ মে। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চলচ্চিত্রের আরেক অভিনয় শিল্পী চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন। যদিও তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’ সিনেমার মাধ্যমে। সিনেমাটিতে তার নাম ছিল ‘মশাল’। ‘অনন্ত ভালবাসা’ খুব একটা সফল না হলেও নায়ক হিসেবে শাকিব খান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল নায়কের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান। এখন শাকিব খান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নাম্বার ওয়ান হিরো। পুরো ইন্ডাস্ট্রি একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢালিউডের এই সুপার স্টার।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে- নাট্যধর্মী সুভা (২০০৬), প্রণয়ধর্মী আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), প্রিয়া আমার প্রিয়া (২০০৮), ও বলবো কথা বাসর ঘরে (২০০৯), প্রণয়ধর্মী-হাস্যরসাত্মক আদরের জামাই (২০১১), মারপিট-প্রণয়ধর্মী ডন নাম্বার ওয়ান (২০১২), প্রণয়ধর্মী পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী (২০১৩), মারপিট-থ্রিলারধর্মীশিকারি (২০১৬), নবাব (২০১৭), নাট্যধর্মী রাজনীতি (২০১৭) ও সত্তা (২০১৭)। এ্রছাড়াও অসংখ্য সিনেমা। যা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি হিরো : দ্যা সুপার স্টার চলচ্চিত্র দিয়ে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরবর্তীকালে পাসওয়ার্ড (২০১৯) ও প্রিয়তমা চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন।

শাকিব খান ২০০৮ সালে ১৮ এপ্রিল তার সর্বাধিক চলচ্চিত্রের সহশিল্পী চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। যদিও বিয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে গোপন রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস সব গোপন কথা প্রকাশ করেন। বিয়ের পর ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। যার নাম রাখা হয় আব্রাম খান জয়। এর কিছুদনি পর দুজনের মধ্যে সম্পকের্ অবনতি হয়। ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর শাকিব খান তালাকের জন্য আবেদন করেন এবং ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এই দম্পতির তালাক সম্পন্ন হয়।

শাকিব তার কর্মজীবনে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বেশ কয়েকটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার ও সিজেএফবি পারফরম্যান্স পুরস্কার।

তিনি শুধু ঢালিউডেরই হিরো নন, অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন ওপার বাংলাতেও।

বন্ধুরা, এ চিত্রনায়কের সাফল্য এতো বেশি যা একটি সময় বলে শেষ করা যাবে না। তবে আমরা আমাদের প্রতিবেনটি এখানেই শেষ করতে চাচ্ছি।