গঙ্গা-যমুনা উৎসবে স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’

Spread the love

‘গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৮’-এর ৮ম দিনে মঞ্চস্থ হবে নাট্য সংগঠন স্বপ্নদলের প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’। এটি স্বপ্নদলের ৬৯তম মঞ্চায়ন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত সৃষ্টি ‘চিত্রাঙ্গদা’র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন।

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে এটি মঞ্চস্থ হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ উৎসব আয়োজন করেছে গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব পর্ষদ।

স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে। রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২ সালে কাব্যনাট্যরূপে এবং ১৯৩৬ সালে নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন।

এর নাট্যকাহিনিতে উপস্থাপিত হয় মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। এবারে অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে, অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে?

এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনির আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়।

স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি ২০১১ সালে সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষযক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত হয়।