একাধিক সফল জুটির নায়ক রাজ্জাক

Spread the love

আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা যিনি নায়করাজ রাজ্জাক নামে সুপরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্র পত্রিকা চিত্রালীর সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী তাকে নায়করাজ উপাধি দিয়েছিলেন। নিজের জন্মস্থান কলকাতায় সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন এবং ১৯৬৬ সালে ১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন চলচ্চিত্রে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে। তিনি জহির রায়হানের বেহুলা চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। ষাটের দশকের শেষের দিকে এবং সত্তরের দশকেও তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৭৬, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে তিনি মোট পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ২১শে আগস্ট ৭৫ বছর বয়সে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

দীর্ঘ ৫০ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে নায়করাজ রাজ্জাক অভিনয় করেছেন পাঁচশরও বেশি সিনেমায়। রাজ্জাকের সঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি গড়েছিলেন কবরী। এর বাইরে তার সঙ্গে আরো অনেক নায়িকাই জুটি বেঁধে পেয়েছেন সফলতা। রাজ্জাকই একমাত্র নায়ক, যার সঙ্গে গড়ে উঠেছে ঢাকাই ছবির সবচেয়ে বেশি সফল এবং জনপ্রিয় জুটি। নায়করাজের প্রথম নায়িকা সুচন্দা। একটা সময় রাজ্জাক-সুচন্দা জুটি মানেই ছিল সিনেমা হলে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। ‘বেহুলা’ দিয়ে পথচলা শুরু রাজ্জাক-সুচন্দা জুটির। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি আসা বন্ধ হয়ে গেলে বাংলা সিনেমার দর্শকরা উত্তম-সুচিত্রা জুটির পর রাজ্জাক-সুচন্দা জুটিকেই সাদরে গ্রহণ করেছিল।

তারা একসঙ্গে ‘আনোয়ারা’, ‘দুই ভাই’, ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’, ‘কুচবরণ কন্যা’, ‘মনের মত বউ’, ‘সংসার’, ‘প্রতিশোধ’, ‘জীবন থেকে নেওয়া’ প্রভৃতি নন্দিত সিনেমায় অভিনয় করেন। কবরী তার ক্যারিয়ারের সাড়া জাগানো ছবিগুলো করেছেন রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধে। ১৯৬৮ সালে রাজ্জাক ও কবরীকে জুটি করে সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন ‘আবির্ভাব’। জুটি হিসেবে রাজ্জাক-কবরীকে দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেন। রাজ্জাক-কবরী জুটির প্রেমের অনবদ্য উপস্থাপন দর্শকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। তাদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো- ‘রংবাজ’, ‘ময়নামতি’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘কাচের স্বর্গ’, ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’, ‘বেঈমান’ প্রভৃতি। নায়করাজের সঙ্গে অন্যতম জুটি ছিল সত্তরের দশকের নন্দিত নায়িকা শবনমের। ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় তারা একসঙ্গে অভিনয় করেন। এছাড়া ‘যোগাযোগ’, ‘আখেরী স্টেশন’, ‘চোর’ সিনেমায়ও একসঙ্গে অভিনয় করেন। তুমুল হিট জুটি বলা হয় রাজ্জাক এবং শাবানাকে। ‘অবুঝ মন’ এবং ‘মধু মিলন’ দুটো ছবিতে অভিনয় করার মাধ্যমে তাদের জুটি গড়ে ওঠে। এরপর এই জুটির একের পর এক জনপ্রিয় ছবি পায় দর্শকরা। এরপর অভিনয় করেন ‘রজনীগন্ধা’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘এতটুকু আশা’, ‘মায়ার বাঁধন’, ‘ঝড়ের পাখি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘চাপা ডাঙার বউ’ প্রভৃতি ছবিতে। ঢাকাই ছবির রাজ্জাক-ববিতা জুটি ছিল অন্যতম সেরা রোমান্টিক জুটি। তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা ‘লাইলি-মজনু’ ও ‘অনন্ত প্রেম’।